পাকস্থলীর ক্যানসার প্রতিরোধ: সচেতনতা ও করণীয়

পাকস্থলীর ক্যানসার (স্টমাক ক্যানসার) হল পাকস্থলীতে হওয়া একটি মারাত্মক রোগ, যা সময়মতো শনাক্ত না হলে প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এই ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

পাকস্থলীর ক্যানসারের কারণ

পাকস্থলীর ক্যানসারের মূল কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি, তবে কিছু নির্দিষ্ট কারণ এটির ঝুঁকি বাড়াতে পারে—

  • হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি (H. pylori) সংক্রমণ
  • অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস (ধূমায়িত, অতিরিক্ত লবণাক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার)
  • ধূমপান মদ্যপান
  • পারিবারিক ইতিহাস (বংশগত কারণে ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি)
  • স্থূলতা অনিয়মিত জীবনযাপন

ক্যানসার প্রতিরোধে করণীয়

পাকস্থলীর ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ জীবনধারা পরিবর্তন ও সচেতনতা জরুরি—

  1. সুষম স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ:
    • প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খান, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এবং ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
    • অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
    • গ্রিল বা ভাজা খাবারের পরিবর্তে সিদ্ধ বা সেদ্ধ খাবার খান।
  2. হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি সংক্রমণ রোধ:
    • এই ব্যাকটেরিয়া দীর্ঘদিন পেটে থাকলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
  3. ধূমপান মদ্যপান পরিহার করুন:
    • ধূমপান ও অ্যালকোহল পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই এগুলো পরিহার করা উচিত।
  4. ওজন নিয়ন্ত্রণ শারীরিক কার্যক্রম:
    • অতিরিক্ত ওজন পেটের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
  5. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা:
    • যাদের পারিবারিক ইতিহাস আছে বা দীর্ঘদিন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তাদের নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সুস্থ জীবনধারা ও সচেতনতা পেটের ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান-মদ্যপান পরিহার এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে এই মরণব্যাধি থেকে দূরে থাকা সম্ভব। তাই সুস্থ থাকতে সচেতন হোন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন।

 

লেখকঃ

ডা. আরমান রেজা চৌধুরী

সিনিয়র কনসালটেন্ট

রেডিয়েশন অনকোলজি

এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা